আপনার ডেভেলপ করা প্রোডাক্টের বিষয়ে লোকের মনোভাব বোঝা।

লোকজন কীভাবে বিভিন্ন প্রোডাক্টের সাথে ইন্টার‍্যক্ট করেন তা নিয়ে 'ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা' গবেষণাকারীরা অধ্যয়ন করেন। আর্নে ডি বুইজ, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা এবং অনলাইন সুরক্ষার বিশেষজ্ঞ। স্টেফান মিকলিটজ গোপনীয়তা এবং সুরক্ষা টিমের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিরেক্টর এবং তার লক্ষ্য হল গোপনীয়তা এবং সুরক্ষা সংক্রান্ত টুল তৈরি করা।

আর্নে ডি বুইজ, Google-এ ব্যবহারকারী অভিজ্ঞতার গবেষক হিসেবে ব্যবহারকারী কীভাবে গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা টুলের সাথে ইন্টার‍্যক্ট করেন আপনি তা বিশ্লেষণ করেন। আপনি কী শিখেছেন?

আর্নে ডি বুইজ, Google UX রিসার্চ ম্যানেজার: শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও লোকজন অনলাইনে নিরাপদ এবং সুরক্ষিত থাকতে চান। তারা তাদের ডেটা গোপন রাখতে চান। সম্প্রতি কয়েক বছর ইন্টারনেট দুনিয়ার পরিধি আরও বেড়েছে ও এটি আরও জটিল হয়েছে, লোকজন প্রশ্ন করেছেন তারা ঠিক কতটা নিরাপদ, তাদের ডেটা আদৌ যথাযথভাবে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে কিনা। আমরা আজকাল যত ঘনঘন ইন্টারনেট ব্যবহার করি বা ডেটা চুরি বা এই সংক্রান্ত যেসব খবর পড়ি তার ভিত্তিতে এইসব প্রশ্নগুলি যুক্তিযুক্ত।

ককথোপকথনে আছেন: আর্নে ডি বুইজ (বাঁদিকে), UX গবেষক এবং স্টেফান মিকলিটজ, সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

আচ্ছা, লোকজন প্রকৃতপক্ষে অনলাইনে গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি ম্যানেজ করার জন্য কী কী করেন?

ডি বুইজ: বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা বিশ্বের একাধিক দেশের নাগরিকদের নিয়ে গবেষণামূলক অধ্যয়ন করেছি, সবাই বলেছেন যে গোপনীয়তার বিষয়টি সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের অধ্যয়ন থেকে বুঝেছি যে প্রকৃতপক্ষে লোকজন গোপনীয়তা সংক্রান্ত তথ্য পড়ার জন্য বা নিজেদের গোপনীয়তা সেটিংস অ্যাডজাস্ট করতে খুব বেশি সময় দেন না। অন্যান্য অধ্যয়ন থেকে দেখেছি যে লোকজন নির্দিধায় অচেনা ওয়েবসাইটে তাদের যোগাযোগের তথ্য দিয়ে দেন – যেমন, কোনও প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করার জন্য। তাই Google-এর মতো কোম্পানিগুলিকে দায়িত্ব নিয়ে নিশ্চিত করতে হবে যে আমরা কীভাবে ডেটা ব্যবহার করি সে বিষয়ে সবার কাছেই যেন স্পষ্ট ধারণা থাকে এবং ব্যবহারকারীদের যেন সহজে ব্যবহার করার মতো কন্ট্রোল প্রদান করি যাতে তারা নিজেদের সুবিধা মতো তাদের অনলাইন অভিজ্ঞতা ম্যানেজ করতে পারেন।

"লোকেরা যাতে বুঝতে পারেন সেইভাবে ব্যাখা করা আমাদের দায়িত্ব।"

আর্ন ডি বুইজ

স্টেফান মিকলিটজ ডেটা গোপনীয়তা এবং সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে, আপনি এটির থেকে কী সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন?

মিকলিটজ: আমরা শুধু বিভিন্ন পরিষেবা ডেভেলপ করা চালিয়ে যেতে চাই যাতে ব্যবহারকারী নিজের ডেটা ম্যানেজ করতে পারেন। কোনও সমস্যার সম্মুখীন না হওয়া পর্যন্ত, ডেটা গোপনীয়তা এবং সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্যাগুলি নিয়ে লোকজন গুরুতরভাবে বিবেচনা করেন না – যেমন, তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গেলে বা এই ধরনের ঘটনা সংক্রান্ত কোনও খবর পড়লে তারা সতর্ক হয়ে যান। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল যে লোকজন জানেন এই রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে, কীভাবে তাদের অনলাইন অ্যাক্টিভিটি চেক করতে হবে এবং প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে হবে।

ডি বুইজ: আসলে কেউ সকালে ঘুম থেকে উঠে এটা ভাবেন না যে, “এখনই Google Account-এর গোপনীয়তা সেটিংস চেক করে নিলে ভাল হয়।” কেউ এইকরম করেন না। যে বিষয়গুলিকে আমার সাধারণত খুব গুরুত্ব দিই না, ডেটা গোপনীয়তা এবং সুরক্ষা এই ধরনের একটি বিষয়। এই কারণেই সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে লোকজনকে প্রম্পট করছি যাতে তারা নিয়মিত নিজেদের অ্যাকাউন্টের সেটিংস চেক করেন।

আচ্ছা, তাহলে আরও উন্নত প্রোডাক্ট তৈরি করার জন্য কীভাবে ইনসাইট পান?

ডি বুইজ: অনেক ধরনেক বিকল্প আছে। অনলাইন সমীক্ষা বিশ্লেষণ করে লোকজন কীভাবে Google অ্যাকাউন্টের মতো অ্যাপ্লিকেশনে নেভিগেট করেন তা খুব ভাল বোঝা যায়। আপনি যদি বিভিন্ন বিকল্প এবং আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া দেখতে চান তাহলে ব্যক্তিগত ইন্টারভিউ থেকে অনেক কিছু পাবেন। সাংস্কৃতিক বৈষম্য সম্পর্কে আরও জানতে আমরা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সমীক্ষা চালাই – রাস্তায়, মার্কেট রিসার্চ স্টুডিও অথবা ব্যবহারকারীর নিজের বাড়িতে। বাড়িতে সমীক্ষা চালানোর বিষয়টি খুব আকর্ষণীয়, কারণ এখানে ব্যবহারকারী নিজের ডিভাইস এবং ডেটা অ্যাক্সেস করতে পারেন এর ফলে ব্যবহারাকরীর অভিজ্ঞতা আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়।

আর্নে ডি বুইজ (বাঁদিকে) ইউনিভার্সিটি অফ গ্রোনিংজেন থেকে এক্সপেরিমেন্টাল সাইকোলজি বিষয় নিয়ে মাস্টার ডিগ্রি করেছেন এবং আইন্ডহোভেন ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রফেশনাল ডক্টরেট করেছেন। তিনি বলেন: “UX গবেষকরা নিশ্চিত করে যে ব্যবহারকারীদের যা প্রয়োজন তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।”

আপনি উদাহরণ দিয়ে আমাদের বোঝাতে পারবেন?

ডি বুইজ: একবার আমার কয়েকজন সহকর্মী জাপানে এক মহিলাকে Google অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার ব্যাপারে সাহায্য করতে তার বাড়িতে যান। তিনি এই পরিষেবা আগে কখনও ব্যবহার করেননি এবং Google অ্যাকাউন্ট খোলার সাথে সাথেই তিনি স্বভাবতই নিজের মনিটরটি নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেন। তবে Google অ্যাকাউন্ট কীভাবে কাজ করে, কীভাবে তিনি তথ্য মুছে দিতে পারবেন এবং Google কীভাবে তার ডেটা ব্যবহার করবে তা তিনি ঠিক করে দিতে পারবেন, এই বিষয়গুলি জেনে তিনি খুশিতে অবাক হয়ে যান।

স্টেফান মিকলিটজ, আপনি এইরকম ইন্টারভিউ দেখেছেন?

মিকলিটজ: হ্যাঁ! যেমন, Google অ্যাকাউন্টের প্রোটোটাইপ ডেভেলপ করার সময় আমরা এটি টেস্ট করেছি এবং জানার চেষ্টা করেছি লোকজন এটি ব্যবহার করার সময় কী ধরনের আচরণ করেন। প্রথম অংশগ্রহণকারী পৃষ্ঠা খুলে অনেকক্ষণ কিছু না করেই স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বসেছিলেন। তারপর, দ্বিতীয় ব্যক্তি এলেন এবং একই ধরনের আচরণ করলেন। আমি ভাবলাম, “ঠিক আছে, আমরা যেভাবে কল্পনা করেছি, লোকজন এটি ব্যবহার করার সময় সে রকম আচরণ করছে না”। এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে লোকজন বুঝতে পারেননি কীভাবে Google Dashboard ব্যবহার করতে হবে।

"প্রোডাক্ট ডেভেলপ করার ক্ষেত্রে UX রিসার্চ থেকে পাওয়া তথ্য় খুব গুরুত্বপূর্ণ।"

স্টেফান মিকলিটজ

আপনি এর ফলে কি ইউজার ইন্টারফেসটি নতুন করে তৈরি করেছেন?

মিকলিটজ: একাধিক বার! আমরা চেষ্টা চালিয়ে গেছি যতক্ষণ পর্যন্ত না এই প্রোডাক্টটি সর্বজনীনভাবে সহজলভ্য হয়েছে এবং লোকজন এই প্রোডাক্ট কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তা বুঝে নিয়েছেন।

UX গবেষণা সত্যিই আপনাদের এই পরিষেবার গুণমান উন্নত করতে সাহায্য করেছে?

মিকলিটজ: প্রোডাক্ট ডেভেলপ করার ক্ষেত্রে UX রিসার্চ থেকে পাওয়া তথ্য় খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টি আমরা বুঝেছিলাম যখন ইনঅ্যাক্টিভ অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার নিয়ে কাজ করেছিলাম, তবে এটি এখন Google অ্যাকাউন্টের অন্তর্ভুক্ত। ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইনঅ্যাক্টিভ থাকলে, এই ফিচার ব্যবহার করে স্থির করতে পারেন তাদের ডেটা কীভাবে ব্যবহার করা হবে। এই প্রোডাক্টটি একদম নতুন, আমাদের কোনও প্রতিদ্বন্দী এই ধরনের প্রোডাক্ট কখনও লঞ্চ করেনি। তাই আমরা একটি প্রোটোটাইপ ডেভেলপ করেছি, সেটি টেস্ট করেছি এবং পরে দ্বিতীয় প্রোটোটাইপ তৈরি করেছি। আমরা অনেকবার প্রোটোটাইপ ডেভেলপ ও টেস্ট করার পর চুড়ান্ত প্রোডাক্ট বানিয়েছি যা ব্যবহারকারীদের খুব ভাল লেগেছে।

আপনার গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য কাজে লাগিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করা হয়েছে, এটা ভেবে আপনার নিশ্চয় খুব ভাল লাগবে।

ডি বুইজ: এই চাকরির এটাই এক দারুণ উপলব্ধি। আমরা নিশ্চিত করি যে ব্যবহারকারীদের যা প্রয়োজন তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফটোগ্রাফ: কোনি মিরবাক

Google কীভাবে প্রত্যেককে অনলাইনে সুরক্ষিত থাকতে সাহায্য করে তা দেখুন।